একটি ঐতিহাসিক সাহিত্য সম্মেলন
মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ্
বৃটিশ বেনিয়ার গোলামীর জিঞ্জির এবং সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশ রাজের দোসর হিন্দু সম্প্রদায়ের কুটিল মায়াজাল ছিন্ন করে মুসলমানদের স্বকীয় সত্তায় বলিয়ান হবার মূলমন্ত্র নিয়ে ১৯৪০ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সম্মেলন।’ যা মুসলিম বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার ইতিহাসে ‘মাইল স্টোন’ রূপে বিগত ৮২ বছর ধরে আমাদের পথ প্রদর্শন করে যাচ্ছে। ঐ সম্মেলনের শপথ বাক্য ধরে বাংলার কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকেরা সৃষ্টি করেন মুসলিম রেনেসাঁ আন্দোলন। কাজী নজরুল ইসলাম, মাওলানা আকরম খাঁ, সওগাত সম্পাদক নাসির উদ্দীন, কবি গোলাম মোস্তফা, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, কবি আবুল হাশিম, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, হাবীবুল্লাহ্ বাহার, অধ্যক্ষ ইবরাহীম খাঁ, কবি ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, কাজী এমদাদুল হক, খান সাহেব মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ্, এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, কবি ফররুখ আহমদ, সৈয়দ আলী আহসান, আহসান হাবিব প্রমুখ নবীন-প্রবীণ কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিকের নিরলস প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ বাংলার ঘরে ঘরে সৃষ্টি হয় ইসলামী ঐতিহ্য চেতনা ও স্বাধীনতা প্রত্যাশী গণজাগরণ।
মুসলিম সাহিত্য সমাজ, ঢাকা ও কলকাতায় রেনেসাঁ সোসাইটি গঠন, দৈনিক আজাদ, কোহিনূর, বুলবুল, মাসিক মোহাম্মদী, মোসলেম ভারত, সওগাত, নবযুগ, মিল্লাত, আল ইসলাহ্ এবং মুকুল ফৌজ, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, প্রভাতী সংঘ প্রভৃতি সংস্থা ও পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে উপমহাদেশে স্বাধীনতা আন্দোলন তীব্রতর হয়। ১৯৪০-৪৭ মাত্র ৭ বছর পর প্রায় দু’শ বছরের গোলামীর অবসান ঘটিয়ে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানরা স্বাধীনতা লাভে সক্ষম হয়। কিন্তু শত বছরের সাধনায় প্রাপ্ত স্বাধীনতার সুফল থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি বারে বারে। পাক শাসকগোষ্ঠীর হঠকারী নীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও ইসলামের আদর্শ থেকে বিচ্যুতির ফলে স্বাধীনতার রূপকার কবি সাহিত্যিক-সাংবাদিকবৃন্দের অটুট ঐক্যেও ফাটল ধরে। তাঁরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েন ।
তীব্রতর হয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। ডান-বাম দু’ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে গোটা জাতি। অনিবার্য হয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ। আমরা আবার ১৯৭১ সালে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করি। আমরা হঠিয়েছি বৃটিশ বেনিয়া, পরাস্ত করেছি পাঠান-পাঞ্জাবী। এবার আশা ছিল বুক ভরে নিঃশ^াস নেব স্বাধীন স্বদেশে। হৃদয় প্রশান্ত হবে শ্যামল বাংলার শীতল বায়ুতে। আলোক উদ্ভাসিত সোনালি সূর্যের পবিত্র দীপ্তিতে দূর হবে নিকষকালো আঁধার, মুছে ফেলব যাবতীয় কলুষ কালিমা। আর অন্ধকার আমাদের উপর ছায়া ফেলবে না। পাপের পঙ্কিল পথ চিরতরে রুদ্ধ হয়ে অনাবিল পবিত্রতায় আমরা মিশে যাবো প্রভুর সান্নিধ্যে। আমাদের সন্তানদের জন্য তৈরি হবে শান্তি সুখের বাংলাদেশ।
এবারও আমাদের ‘আশায় গুড়ে বালি।’ স্বাধীনতার ৭৫ বছরে (১৯৪৭-২০২১) ৯০% মুসলমানের দেশে আমরা দেখছি সংস্কৃতি মানে লম্ফ-ঝম্ফ, বেহায়াপনা, সাহিত্য মানে অনৈতিকতা, যৌন সুড়সুড়ি, খোদাহীনতা এবং নির্লজ্জভাবে ওপার বাংলার নাস্তিক্যবাদী তাবেদারী। এর বিপরীতে যদি কেউ আপন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এবং নৈতিকতার প্রশ্নে কলম ধরেন তবে তাদের ভাগ্যে জোটে সহ¯্রমুখী অপবাদ- সাম্প্রদায়িক, স্বাধীনতা বিরোধী, মধ্যযুগীয়, মৌলবাদী প্রভৃতি।
‘যে ঈমান ফাঁসির মঞ্চে অসংকোচে গায় জীবনের গান’- সে ঈমানের বলে বলিয়ান জাতির কণ্ঠস্বর তথা পথ-প্রদর্শক কবি সাহিত্যিকবৃন্দ কখনো মুখবুজে চুপ করে গুটিসুটি মেরে বসে থাকতে পারেন না। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং বিদেশি আধিপত্যবাদের চতুর্মুখী আক্রমণে পর্যুদস্ত বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ৩৪ বছর পূর্বে ২৫ নভেম্বর ১৯৮৮ইং. শুক্রবার ‘বাংলা সাহিত্য পরিষদ ঢাকা’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রথম সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্মেলন’ ছিল ‘অন্ধকারে আলোর উদ্বোধন।’
চট্টগ্রামের একমাত্র প্রতিনিধিরূপে সে সম্মেলনে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। দিন-ব্যাপী অনুষ্ঠানমালা এবং উপস্থিত সুধীবৃন্দের বক্তব্য ও প্রাণখোলা আলাপচারিতা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। সম্মেলনে বসে বসে আমি নানা কথা ভেবেছি। শত বাধা ও প্রতিক‚লতার ঘূর্ণাবর্তে নিমজ্জিত এ জাতির সামনে আশার আলোকবর্তিকা স্বরূপ এ-সম্মেলন আমাকে নতুন পথ দেখিয়েছে। কারণ...
ধর্মীয় অঙ্গনে আলেম সমাজ, রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যখন শত দল ও মতে বিভক্ত, জাতি যখন ব্রাহ্মণ্যবাদী ও সা¤্রাজ্যবাদী শক্তির নানা ষড়যন্ত্রে আক্রান্ত ঠিক সে সময় ‘বাংলা সাহিত্য পরিষদের’ নিরলস প্রচেষ্টায় এদেশের সকল পর্যায়ের ইসলামপন্থী কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিল্পীবৃন্দ সে দিন একমঞ্চে একত্রিত হন। এ সম্মেলন ছিল আমাদের সীমাহীন অনৈক্যের মাঝে বহু প্রতীক্ষিত ঐক্যের প্রতীক। তথাকথিত কুবুদ্ধির হোতা বুদ্ধিজীবীদের একচেটিয়া আধিপত্যের বিরুদ্ধে এ সম্মেলন সুবুদ্ধির ইস্পাতদৃঢ় দেয়াল রচনা করেছে।
সঠিক সিদ্ধান্ত, নিরলস প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে যদি বাংলা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে সমমনা মুসলিম কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যসাধন সম্ভব হয় তবে আমরা কেন রাজনৈতিক অঙ্গনে ও ধর্মীয় অঙ্গনে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবো না?
সকাল ৯টায় কবি সৈয়দ রফিকের কণ্ঠে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে নিউবেলী রোডস্থ নব নির্মিত ‘গাইড হাউস’ মিলনায়তনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ৪টি অধিবেশনে বিভক্ত এ সম্মেলনের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ পাঠ করেন যথাক্রমে ‘আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গতিধারা’ বিষয়ে কবি আফজাল চৌধুরী ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ইসলামের প্রভাব’ বিষয়ে মাসিক পৃথিবী ও কলম সম্পাদক জনাব আবদুল মান্নান তালিব।
তৃতীয় অধিবেশনে ছিল নবীন-প্রবীণ কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর।
চতুর্থ অধিবেশনে মঞ্চস্থ হয় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাট্য গীতিনাট্য- ‘আনোয়ার।’
চারটি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান, অধ্যাপক আবদুল গফুর, কবি আল মাহমুদ ও জনাব আবুল ফায়েদ মুহাম্মদ ইয়াহিয়া (ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তৎকালীন মহা-পরিচালক)।
কবি আফজাল চৌধুরী ও জনাব আবদুল মান্নান তালিবের পঠিত প্রবন্ধের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, কবি-সাহিত্যিক প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান বলেন, চিরন্তন ও কালোত্তীর্ণ সাহিত্য রচনার জন্য আমাদের কবি-সাহিত্যিকদের ইসলামের গভীরে যেতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র আবেগ দিয়ে সাহিত্য রচনা হয় না। এর সাথে জ্ঞান ও বুদ্ধিকে যুক্ত করতে হবে তবেই সাহিত্যের চিরকালীনরূপ দেয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস যাঁরা লিখেছেন তারা মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদানকে অস্বীকার করেছেন। সে সময় অমুসলিমদের চেয়ে মুসলমানদের অবদান অনেক বেশি ছিল। তখনকার মুসলিম সাহিত্যিকদের ইসলামের ব্যাপারে যথেষ্ট পাÐিত্য ছিল বলে তাঁদের লেখায় ইসলামী ঐতিহ্য ফুটে উঠেছিল। কিন্তু ঊনিশ শতকের পর মুসলিম লেখকদের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা ছিল না।
ইসলাম একটি বিশ^জনীন ধর্ম। ইসলাম মানুষকে সাম্প্রদায়িক করেনি; বরং উদার ও মহান করেছে। ইসলামকে শুধু নিজের জীবন ও অস্তিত্ব দিয়ে নয়, আমাদের সমাজ, পরিবেশ ও সংস্কৃতি দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে। সত্যকে স্পর্শ করার যে দুঃসাহস মহানবী আমাদের দিয়ে গেছেন তা যদি আমরা ধারণ করতে না পারি তবে আমাদের ব্যর্থতা অনিবার্য। এ পর্যায়ে তিনি নতুন লেখকদের প্রতি গভীরভাবে পবিত্র কুরআন অধ্যয়নের আহŸান জানান।
ড. আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, সাহিত্যের অনুসরণে আমাদের দেশে এমন অনেক সাহিত্য রচিত হচ্ছে যার সাথে এদেশের মানুষের কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের সাহিত্যে এদেশের ১১ কোটি (১৯৮৮) মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিশ^াসকে তুলে ধরা উচিত। অধ্যাপক শাহেদ আলী বলেন, আমাদের কবি সাহিত্যিকদের হতে হবে খুবই আত্মসচেতন। তাদের চিন্তা-চেতনা ও লেখনি হতে হবে সর্বগ্রহণযোগ্য। প্রবন্ধের প্রতিটি বাক্যে, কবিতার প্রতিটি চরণে শুধু আল্লাহ্ আল্লাহ্ বা রাসূলে আকরম (সা.) এর নাম জুড়ে দিলেই ইসলামী সাহিত্য হয় না; বরং ইসলামের সার্বিক সৌন্দর্য-চিত্র সহজ-সরল ভাষায় মানুষের বিবেকের দুয়ারে উপস্থাপন করাই প্রকৃত ইসলামী সাহিত্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমাদের রচনায় যদি জীবন-সত্য থাকে তবে তা ভৌগোলিকগÐি পেরিয়ে বিশ^্যব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে এবং আমাদের শত্রæরাও তা গ্রহণ করবে।
দৈনিক জনতা সম্পাদক জনাব সানাউল্লাহ্ নূরী বলেন, ইসলামের শাশ^ত সত্য ও তার সাংস্কৃতিক গভীরতা আমরা এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কথাবার্তা, চালচলন, পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচার-আচরণে দেখতে পাই। সুদূর অতীত হতে বাংলা সাহিত্যের ছত্রে ছত্রে মুসলমানী সংস্কৃতির সুস্পষ্ট ছাপ পরিলক্ষিত। আজ যারা হাজার বছরের ঐতিহ্যকে মুছে ফেলতে তৎপর তাদের চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় আমাদের কবি-সাহিত্যিকদের নিরলস প্রচেষ্টা চালাতে হবে। নতুন প্রজন্মকে এ পথে এগিয়ে নিতে নানাবিধ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
কবি আল মাহমুদ বলেন, আমাদের সাহিত্যে যা কিছু ইসলামিক তাকে খাটো বলে চিহ্নিত করার জঘন্য অপপ্রয়াস চলছে। আমাদের লেখক সাহিত্যিকদের এই চক্রান্ত প্রতিহত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী সাহিত্য রচনা শুধু সম্ভবই নয় অধিকন্তু একমাত্র সার্থক ইসলামী আধুনিক সাহিত্য রচিত হতে পারে ইসলামী বিশ^াসকে অবলম্বন করে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন হতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক অগ্রপথিক সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুর বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ৯ মাস বা ২৪ বছরের নয়Ñ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস প্রায় সহ¯্র বছরের। এই ইতিহাসকে বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে হবে এদেশের গণমানুষের কাছে। যাতে করে তারা জাতিসত্তার আপন ঐতিহ্য খুঁজে পায়।
অগ্রপথিক এর নির্বাহী সম্পাদক নজরুল গবেষক জনাব শাহাবুদ্দীন আহমদ বলেন, যাঁরা আমাদের জীবনের মধ্যে আলো আনতে পারবেন তাঁরাই হবেন সফল সাহিত্যিক। যে সাহিত্যে, যে সংস্কৃতিতে প্রাণের স্পন্দন নেই তা আর যাই হোক সার্থক সাহিত্য সংস্কৃতি নয়।
বাংলা সাহিত্যে নৈতিক উপন্যাসের পথিকৃত জনাব জামেদ আলী বলেন, শতমুখী অপসংস্কৃতির গতিপথ প্রতিরোধে আমাদের সাহিত্য চর্চায় ইসলামী ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ তুলে ধরতে হবে।
সাহিত্য সাময়িকী মাসিক কলম-এর নির্বাহী সম্পাদক এবং নজরুল উত্তর বাংলা সাহিত্যে ইসলামী সঙ্গীতের সফল কবি মতিউর রহমান মল্লিক বলেন, একটি মহল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কলকাতাকে বাংলা সাহিত্যের কেন্দ্ররূপে চিহ্নিত করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা চান না ঢাকা বাংলা সাহিত্যের রাজধানী হোক। আমাদের সম্মিলিত সাহিত্য-সংস্কৃতির অব্যাহত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা তা রুখে দেব।
কবি আবদুস সাত্তার বলেন- আমাদের কথা ও কাজে বিশ^াসের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। এটাই হবে আমাদের প্রকৃত সংস্কৃতি।
বিশিষ্ট শিশু সংগঠক ও কবি জয়নুল আবেদীন আজাদ বলেন, ফুলের সাথে সৌরভের যে সম্পর্ক, আমাদের জীবনের সাথে সংস্কৃতির সেরূপ অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।
সম্মেলনের প্রারম্ভে আহŸায়ক জনাব আবদুল মান্নান তালিব তাঁর স্বাগত ভাষণে বলেন, আমরা এমন এক সাহিত্যের সাধক যার মহান আদর্শ অন্ধকারে আলো দিয়েছে, নিষ্প্রাণ জনপদে শুনিয়েছে জীবনের জয়গান। সমস্ত অকল্যাণ, অন্যায় ও জুলুম এবং শোষণ মুক্ত করে মানুষকে দান করেছে ন্যায় ও কল্যাণের ধারা। এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আমরা সে কল্যাণ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক ও শিল্পীবৃন্দকে নিরলস প্রচেষ্টা চালানোর আহŸান জানাচ্ছি। এ ছাড়া সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জনাব মাহবুবর রহমান মোর্শেদ।
সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন সাইমুম সিরিজের অমর ¯্রষ্টা দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক জনাব আবুল আসাদ।
উপরোক্ত গুণীজন ছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কবি আল মুজাহিদী, কবি রুহুল আমিন খান, মাওলানা জুলফিকার আহমদ কিসমতী, অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইউম, কবি ও ছড়াকার সাজজাদ হোসাইন খান, সাহিত্যিক নূর মোহাম্মদ মল্লিক, কবি আসাদ বিন হাফিজ, জনাব মাহবুবুল হক, কবি আবদুল হালীম খাঁ, হাসনাইন ইমতিয়াজ, রৌশন আলী খোন্দকার, কবি মোশাররফ হোসেন খান, কবি সোলায়মান আহসান, সাংবাদিক মাসুমুর খলিলী, লেখক ও সংগঠক আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ্, মাহমুদ হাফিজ ও শরীফ আবদুল গোফরান প্রমুখ নবীনÑ প্রবীণ কবি-সাহিত্যিক।
দার্শনিক অধ্যক্ষ দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, মাসিক মদীনা সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, কবি ও সাহিত্য সমালোচক মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ্ এবং আবদুল মান্নান সৈয়দ প্রমুখ প্রবীণ পÐিতেরা সম্মেলনে উপস্থিত না হলেও এ সম্মেলনের প্রতি তাঁদের আন্তরিক শুভ কামনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তাঁদের ঐক্য প্রয়াসে বাংলার জমিনে প্রকৃত ইতিহাস ও ঐতিহ্য চেতনার বুনিয়াদ সুদৃঢ় হোক এটাই আমাদের আন্তরিক কামনা।
লেখক : সম্পাদক, মাসিক দ্বীন দুনিয়া ও শিশু কিশোর দ্বীন দুনিয়া

