আমিতো মহা সত্যের কাছে দায়বদ্ধ এবং অঙ্গীকারাবদ্ধ
ইয়াসিন মাহমুদ :
আপনার সমবয়সী ভিন্ন চিন্তার অনেক লেখকতো বেশ মূল্যায়িত হয়েছেন। জাতীয় পুরস্কারও
পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে বলতে গেলে আপনিতো কিছুই পাননি। এব্যাপারে কিছু বলবেন কি?
মোশাররফ হোসেন খান
: কি পাইনি, কি পাওয়া উচিৎ ছিলো,
কেন পাইনি-সেসব নিয়ে এখন
আর আমি ভাবি না। আমি গোটা জীবন লিখে আসছি, যতদিন বেঁচে থাকি লিখে যেতে চাই। আমার কাজে আমি শতভাগ শ্রম, নিষ্ঠা ও সততার সাক্ষর রেখে যেতে চাই। দোয়া করুন
আমি যেন সমাজ, দেশ, জাতি তথা গোটা পৃথিবীর জন্য কিছু অবদান রেখে যেতে
পারি। আমি আমার জাতির জন্য, মানুষের জন্য,
মহা পৃথিবীর কল্যাণের জন্য
লিখে যেতে চাই। মহান রব সেই তৌফিক যেন আমাকে দান করেন। আমিতো মহা সত্যের কাছে দায়বদ্ধ
এবং অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমার কাজ শুধু মানুষকে জাগিয়ে তোলা, তাদেরকে সবুজ স্বপ্ন দেখানো এবং ক্রমাগত এপথে হেঁটে
চলা । আমি তাই করছি। সফলতা-বিফলতা নিয়ে ভাববার অবকাশ কোথায়! ওটা ছেড়ে দিয়েছি আল্লাহর
ওপর। দেশ ও জাতির বিবেকের ওপরও কিছুটা দায় বর্তায় বটে! সেটা তাদের বিষয়।
ইয়াসিন মাহমুদ :
বাংলাদেশের ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী ধারার সাহিত্য সংস্কৃতির বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা
সম্পর্কে বলবেন কী?
মোশাররফ হোসেন খান
: আপনার প্রশ্নের ভেতরেই তো জবাবের ইঙ্গিতটা রয়ে গেছে । যেমন- আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি
চর্চার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ইসলামি মূল্যবোধকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা। এবং সেই কাজটি
অবশ্যই হতে হবে আল্লাহ এবং রাসূলের [সা] নির্দেশিত ধারায় । আমাদের সকল প্রচেষ্টাই হওয়া
উচিৎ মহান রবের সন্তুষ্টির জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য,
মানুষের কল্যাণের জন্য। ‘সাহিত্য
কেবল সাহিত্যের জন্য-এই বিশ্বাসে কোনো ইসলামি চেতনার কবি বিশ্বাসী হতে পারেন না । হওয়া উচিৎ তো নয়। অবশ্যই
আমাদের ইসলামি শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে এমন সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চ্চা করা উচিৎ যা
বৃহৎ অর্থে মানুষ, মানবতা ও গোটা মানব
জাতির কল্যাণের জন্য নেয়ামক হতে পারে। কাজটা শুরু হয়ে গেছে আলহামদুল্লিাহ! তবে আমরা
এখনো লক্ষ্য পথে হাঁটছি মাত্র। লক্ষ্য মাত্রা অর্জনের জন্য এখনো আমাদের অপেক্ষা করতে
হবে । ইয়াসিন মাহমুদ : আমরা একটা বিষয় দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছি ইসলামি ধারার সাহিত্য-সংস্কৃতি
সংগঠনগুলো তাদের গুণীজনদের বেঁচে থাকতে মূল্যায়ন করে না। মরার পরে স্মারক প্রকাশ,
মরণোত্তর পদকসহ আরও কতো কিছুর
ব্যবস্থা করে। এ বিষয়ে আপনি কিছু বলবেন কি?
মোশাররফ হোসেন খান
: দেখুন বিষয়টি খুবই বেদনাদায়ক হলেও স্পর্শকাতর। এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই
না। তবে একটি কথা স্মরণ রাখা ভালো যে, যথাযথ সম্মাননা কিংবা পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সাহিত্য-সংস্কৃতির জমিন কখনো উর্বর হতে
পারে না। এক্ষেত্রে আমাদের সংগঠনগুলোর দায়িত্বপূর্ণ এবং সুবিবেচনা প্রসূত আন্তরিকতা
ও মানবিকতার সাথে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা জরুরি বলে আমি মনে করি । ইয়াসিন মাহমুদ : ইন্টারনেট
এর কারণে আমাদের ছোট্ট সোনামনিরাও অপসংস্কৃতির দিকে ঝুঁকে পড়ছে এমন কি বই পড়ার অভ্যাসও
কমে যাচ্ছে, পাঠকও কমে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য কি?
মোশাররফ হোসেন খান
: বিষয়টি নিয়ে আমিও খুব উদ্বিগ্ন! এটা ভাইরাসের চেয়েও দ্রুত গতিতে গোটা দেশের গ্রাম-গঞ্জ
পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এ এক মহামারি ব্যাধি! এতে করে আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি, রুচিবোধ এমনকি ঈমান আকিদাও আজ হুমকির মুখে। বিষয়টি
নিয়ে সরকার, অভিভাবক, সমাজ ও যুব সমাজকেও ভাবতে হবে। এই কালব্যাধি থেকে
আমরা মুক্তি পেতে পারি তার সমাধান ও কার্যকরী পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা জরুরি
ইয়াসিন মাহমুদ :
আপনিতো আশৈশব লিখছেন, এখন তো একটা বয়সে
উপনিত হয়েছেন। প্রতিটি কাজের তো একটা উদ্দেশ্য থাকে। আপনার জীবনের পাওয়া না পাওয়ার
বিষয়টি কীভাবে দেখছেন।
মোশাররফ হোসেন খান
: আমার সাহিত্য কর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক সময়, অর্থাৎ কৈশোর কালে নিজের ভেতরেই ছিলো সীমাবদ্ধ । আমি কবি হতে চেয়েছিলাম। একজন
লেখক হতে চেয়েছিলাম। এর জন্য গোটা জীবনই আমাকে খেসারত কিংবা ত্যাগ যেটাই বলা হোক না
কেন, সেটা করেছি। করে চলেছি। তারুণ্যের
শ্রেষ্ঠ সময়গুলো আমি সাহিত্যের জন্য ব্যয় করেছি। গোটা জীবনের খুব স্বল্প সময় দিতে
পেরেছি নিজের ও পরিবারের জন্য। বৈষয়িক, ভেদ-বুদ্ধি, হিসাব-নিকাশ কিংবা
চিন্তা-ভাবনা-ওসব আমার ধারের কাছে ঘেষতে পারিনি। লিখতে লিখতে যখন নিজের ভেতর একটা আত্মবিশ্বাস
জন্মে গেলো, সমাজেও কিছুটা যশ-খ্যাতি
যখন অর্জিত হলো, তখন আমার সাহিত্য
ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ব্যক্তি ভাবনা থেকে সর্বজনীন ভাবনায় রূপান্তর ঘটলো। আমি মনে করি অন্য দশজন সচেতন মানুষ
সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রে যেভাবে অবদান
রাখতে পারেন আমি লেখনীর মাধ্যমে তার চেয়েও বড় পটভূমিকায় অবদান রাখতে পারি। লেখকের
দৃষ্টিভঙ্গি স্বচ্ছ থাকে চিন্তা যদি কল্যাণকর হয়। মন-মস্তিক্য যদি পবিত্র ও সুস্থ
রাখা যায় তাহলে যেকোনো লেখকই এধরনের বিশ্বজনীন চিন্তাকে তাঁর সাহিত্যের উপজীব্য করতে
পারেন। আমি অবশ্য তাই করি। নিজেকে মনে করি আমি শুধু আমার পরিবারের কবি নই, আমি আমার সমাজ, দেশ, রাষ্ট্র এবং আর্ন্তজাতিক তথা মহাবিশ্বের একজন কবি ও নাগরিক। একটি সুন্দর,
শান্তিময় ও কল্যাণকর দেশ
যেমন আমার কাম্য তেমনি একটি বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবীও আমার কাম্য। আমি মানুষকে নিয়ে
স্বপ্ন দেখি, মানুষের সম্ভাবনা
নিয়ে স্বপ্ন দেখি, গোটা পৃথিবীকে নিয়ে স্বপ্ন
দেখি। আমার স্বপ্নের ডানা এই ক্ষুদ্র পরিসর থেকে মহাবিশ্বের সীমাহীন সীমা পর্যন্ত । মানুষ মানবতা এবং এই পৃথিবীকে
অপার রহস্য, মহান রবের যে সৃষ্টি
সম্ভার, সৃষ্টির মধ্যেই তাঁর
যে শিল্পময় নিখুঁত কারুকাজ এ সবই আমার সাহিত্যের উপজীব্য বিষয়। মহাগ্রন্থ আল কোরানের
প্রতিটি স্তরেই রয়েছে একজন সচেতন লেখকের জন্য প্রচুর উপাদান। চিন্তার মহা সমুদ্র।
এসব নিয়ে ভাবতে হয়। একজন সত্যনিষ্ঠ প্রকৃত কবির জন্য খোলা রয়েছে মহান রবের পক্ষ
থেকে স্বপ্ন-সম্ভাবনার সকল দুয়ার। পথের শেষ বলতে কিছু ৯০। মুখোমুখি : মোশাররফ হোসেন
খান
নেই। হাঁটতে হাঁটতে
যেখানে মনে করি পথের শেষ, সেখান থেকেই আবার
শুরু করি নতুন পথের সন্ধানে নতুন করে গভীর বিশ্বাসে পা তোলা পা ফেলা। সাহিত্য যদি জাতির
কোনো কল্যাণে না আসে এই মহা পৃথিবীর নাগরিক হিসাবে তার কোনো প্রতিনিধিত্ব না করে তাহলে
মনে করি সেই সাহিত্যের খুব একটা গুরুত্ব নেই। আমি যথাসম্ভব চেষ্টা করি আমার সাহিত্যে
কালের সাক্ষর রেখে যেতে। আমি যে এই পৃথিবীতে এসেছিলাম তার একটা ছাপ কিংবা রেখাচিহ্ন
রেখে যেতে চাই। সেটা মানুষের মনে সমাজের স্তরে স্তরে এবং মহাবিশ্বের মহাকালের পিঠে।
আমার ভেতর কোনো অহমবোধ কাজ করে নি, করেও না । বরং মনে করি আমি একটি তৃণলতার
চেয়েও ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র, অতি তুচ্ছ। নিজেকে
বড় ভাববার মত দুঃসাহস অন্তত আমার নেই। কারণ আমার মালিক সেই মহান শক্তিধর রাব্বুল আলামিন
। আমি কি নিয়ে গর্ব বা অহংকার করবো? কোন সাহসে! ওসব নিয়ে ভাবিও না । প্রাপ্তি ও প্রাপ্তি নিয়েও হিসাব-নিকাশ করার সময় পাই না। আমি শুধু আমার কাজ নিয়েই
ব্যস্ত। আমি আমার সুচিন্তিত ও সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য পথে ক্রমাগত চলমান । আমার কোনো বিশ্রাম নেই । একমাত্র মৃত্যুই আমার বিশ্রামের
কাল!
ইয়াসিন মাহমুদ :
সাহিত্যের ইসলামি রূপরেখা সম্পর্কে কিছু বলবেন? মোশাররফ হোসেন খান : এব্যাপারে আল কুরআনেই সুস্পষ্ট
ব্যাখ্যা রয়েছে। আমি মনে করি আল কুরআন এবং আসুন্নাহই ইসলামি সাহিত্যের চূড়ান্ত মাপকাঠি।
যারা এ পথে এগুতে চান, তাঁদের অবশ্যই এ বিষয়ে
জ্ঞান লাভ করা একান্ত জরুরি। তা নাহলে লক্ষ্যচ্যূত হবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
ইয়াসিন মাহমুদ :
আমাদের অনেকের ভেতরে একটা ধারণা রয়েছে ইসলামের অনুসারী হলে ভালো লেখক হওয়া যায়না।
কারণটা কী? মোশাররফ হোসেন খান
: এটা যারা মনে করেন, বুঝতে হবে তাঁদের
মানসিক পরাজয় ঘটে গেছে। তাঁদের বিপন্ন অপ-চিন্তা ও ধারণা থেকেই তাঁরা এধরনের হীনমন্যতার
পরিচয় দেন। এটা ঈমান ও বিশ্বাসেরও পরিপন্থী চিন্তা বটে! আসহাবে রাসূলের [সা] সকল কবিই
ছিলেন ইসলামের একেকজন খাঁটি অনুসারী এবং মুজাহিদ। আবার তাঁদের লেখনীয়ও ছিলো তীক্ষ্ণ
তরবারির মতো ধারালো ও শক্তিশালী । যে কারণে হাজার বছর পরও, এখনো তাঁদের অমর পঙ্ক্তিমালা
আমাদেরকে উৎসাহিত ও উজ্জীবিত
করে যাচ্ছে। বোধ করি অনাদিকাল পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে। কে বলেছে ইসলামি অনুসারী
হলে ভালো লেখক হওয়া যায় না? এধরনের উদ্ভট এবং
ঈমান পরিপন্থী চিন্তা মুসলমানদের মধ্যে থাকা উচিৎ নয়।
ইয়াসিন মাহমুদ :
মোশাররফ ভাই, আমাদের মধ্যে একটা প্রচলিত
ধারণা আছে যে পাগলা টাইপের লোকজনই কেবল কবিতা চর্চা করে। বিষয়টি আপনি কোন দৃষ্টিতে
দেখেন?
মোশাররফ হোসেন খান
: এটা একেবারেই হাস্যকর একটা অমূলক ধারণা। সম্ভবত কিছু বিভ্রান্ত পাগল-ছাগলকে কবিতার
নামে বর্জ্য উদগারণ করতে দেখে সাধারণের মধ্যে এধরনের একটা ধারণার জন্ম নিতে পারে। প্রকৃত
সত্য হলো,
অধিকাংশ কালজয়ী কবিরাই প্রকৃত
অর্থে ছিলেন যেমন মার্জিত রুচিবোধের মানুষ তেমনি ছিলেন মানবিক ও সকল দিকে উৎকৃষ্ট।
তাঁদের মধ্যে উন্নত চরিত্র, শালীনতাবোধ, মর্যাদাবোধ এবং শিল্পবোধ ছিলো অত্যন্ত সুশোভিত ও
নান্দনিক। বাংলাদেশ কেন, বিশ্ব সাহিত্যে এমন
একজন কালজয়ী কবিকেও পাওয়া যাবে না-যিনি ছিলেন রুচিবোধের দিক থেকে অমার্জিত। পাগল-ছাগল
দিয়ে কি আর কবিতার মতো সুক্ষ্ম সুন্দর শিল্পের চাষ বাস হতে পারে! সেটা কি করে সম্ভব? সুক্ষ্ম শিল্প নিয়ে কাজ করা, এটাকি কোন ছেলে খেলা? ভালো রুচিবোধসম্পন্ন কবিরাই কেবল ভালো কবিতা লিখতে
পারেন। এটা কোন পাগল-ছাগলের কাজ নয় ৷
ইয়াসিন মাহমুদ :
দীর্ঘদিন ধরে আপনাকে তো গল্প লিখতে দেখি না? মোশাররফ হোসেন খান
: একেবার যে লিখি না তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের চাপে লিখতে হয় বৈকি, তবে ছোটগল্প এখন আর আগের মতো নিমগ্ন চিত্তে একাধারে
লেখা হয়ে ওঠেনা। এর কারণ হলো, আমি যে ধরনের মননশীল
এবং শিল্প সম্মত গল্প লিখতে অভ্যস্ত, তার জন্য প্রচুর সময়
দাবি করে। অনিবার্য কারণে এখন আর ঠিক সেই পরিমাণ শ্রম ও সময় ছোটগল্পে দিতে পারি না।
তবে এই না পারা কষ্টটা যে আমাকে পীড়িত করে না, তা কিন্তু নয়। এখনও
প্রচুর ছোটগল্প লেখার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে থাকে। আমিতো ছোটগল্পকে আমার কবিতার বিকল্প
শিল্পসত্ত্বা হিসাবে দেখি! সুযোগ পেলে ইনশাআল্লাহ আবারও ছোটগল্পে মনোনিবেশ করবো ।
ইয়াসিন মাহমুদ :
সারাদেশে তো শত শত লিটল ম্যাগ বের হচ্ছে । এখন কী আগের মতো সেই রকম মানসম্মত লিটল ম্যাগ বের
হচ্ছে? বর্তমানের লিটল ম্যাগ সম্পর্কে আপনার ধারণা কি?
মোশাররফ হোসেন খান
: নতুন লেখকদের জন্য সাহিত্যের প্রকৃত চারণভূমি হলো লিটল ম্যাগ। যতবেশি লিটল ব্যাগ
বের হবে ততবেশি আমরা নতুন লেখকের সাথে পরিচিত হতে পারবো। তবে সেগুলো হওয়া উচিৎ সু-পরিকল্পিত
চিন্তার ফসল। এলো মেলো কিংবা অগোছালো নয় ৷ শিল্পগত মানের দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
এখন যে সকল লিটল ম্যাগ বের হচ্ছে তার সবগুলোই যে আমার দেখার সুযোগ হয় তা নয়, কিন্তু যেগুলো আমার হাতে আসে কিংবা চোখে পড়ে দেখি
তার ভেতরে অনেক লিটল ম্যাগই খুব উন্নত মানের, রুচিশীল এবং শিল্পসম্মত।
কিছু কিছু নতুন লেখকের লেখা পড়ে পরিতৃপ্ত হই। এটা অবশ্যই আমাদের সাহিত্যের জন্য একটা
ভাল দিক। লিটল ম্যাগ যতবেশি বের হবে ততই আমাদের সাহিত্যের ভান্ডারটি সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
এটা মূলত নবীন-তরুণদেরই কাজ। তাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।
সামনে এগিয়ে যাবার জন্য তাদেরকে আরও উৎসাহিত করতে হবে।
ইয়াসিন মাহমুদ :
আমাদের দেশের প্রকাশনা সংস্থার বর্তমান হালচিত্র সম্পর্কে কিছু বলবেন কী?
মোশাররফ হোসেন খান
: খুব একটা ভালো, সেকথা বলা যাবে না। প্রকাশনার
এই দুরাবস্থা বেশিদিন চলতে থাকলে সমূহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দেবে। লেখকরা যদি প্রকাশক
না পান তাহলে হতাশ হন। সেই হতাশা থেকে বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে
যায়। এতে করে আমাদের সাহিত্যের ধারটিও বিঘ্নিত হয়। এদিকে সকলেরই খেয়াল রাখা প্রয়োজন
বলে মনে করি।
ইয়াসিন মাহমুদ :
কবি মতিউর রহমান মল্লিক সম্পর্কে কিছু বলুন ।
মোশাররফ হোসেন খান
: তিনি ছিলেন আমার একান্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু । একই প্রতিষ্ঠানে দুইজন কাজ করেছি দীর্ঘদিন। একই
সাথে সাহিত্য সংস্কৃতি আন্দোলন করেছি। বলা যায় আমরা দুজনেই ছিলাম পরস্পর পারিবারিক
ভাই হিসাবে। সুখ-দুঃখকে ভাগাভাগি করে নিতাম। তাঁর সম্পর্কে আমার বিভিন্ন স্মৃতি কথামূলক
লেখায় উল্লেখ আছে।
ইয়াসিন মাহমুদ :
একটা বিষয় দীর্ঘদিন ধরে দেখছি-বাংলাদেশের ইসলাম পন্থীরা রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকার
জন্য যেভাবে অর্থ খরচ করে, লড়াই করে কিন্তু
সাহিত্য সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা, বিশ্বাসী ধারাকে আরো
শাণিত করার তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায় না?
মোশাররফ হোসেন খান
: ইদানিং অবশ্য সামান্য হলেও কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা আশার কথা। তবে
আমাদের আদর্শ ও ঐতিহ্যভিত্তিক সাহিত্য-সংস্কৃতির ভিত আরো মজবুত করার জন্য এদিকে দায়িত্বপূর্ণ
দরদ ভরা দৃষ্টি দেওয়া উচিৎ। একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য মাত্রা ও পরিকল্পনাও থাকা জরুরি।
সাহিত্য-সংস্কৃতির বিষয়টিকে আন্দোলনের মূল ধারার সাথে সম্পৃক্ত করে এই ক্ষেত্রটিকে
আরোও বেগবান করা যায় কিভাবে সে সম্পর্কে বাস্তব সম্মত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি
বলে মনে করি। সুস্থ সাহিত্য-সংস্কৃতি হলো একটি সমাজের সভ্যতার মাপকাটির মতো। এটাকে
কোনক্রমেই অবহেলার চোখে দেখার সুযোগ নেই বলে আমার বিশ্বাস।
ইয়াসিন মাহমুদ :
আপনি তো গানও লেখেন। আপনার গানের শিল্পী কে কে? মোশাররফ হোসেন খান : প্রথমেই এই কথা স্বীকার করে
নেওয়া ভালো যে কথিত অর্থে আমি অন্যদের মতো গীতিকার নই। আমি কবি মাত্র। তবে সামাজিক
ও সময়েল দায়বদ্ধতা থেকেই কিছু কিছু গান আমাকে লিখতে হয়। বলা যায় আমার ভক্তরা জোর
করে লিখিয়ে নেন। ক্যাসেট কিংবা সিডিবদ্ধও হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশনও করা হয়।
কিন্তু যেহেতু আমি গীতিকার নই, সেই কারণেই হয়তো
সুরকার, শিল্পী প্রভৃতির নাম
আমার মনে রাখা সম্ভব হয়না। তবে গানের রূপ দেওয়ার পরে যখন সেটা শুনি তখন বেশ ভালোই
লাগে !
ইয়াসিন মাহমুদ :
অনেক কবিকে অনেক খেতাবে চিহ্নিত করা হয়। আপনার কী তেমন কোন খেতাব- টেতাব আছে?
মোশাররফ হোসেন খান
: ওসব খেতাব- টেতাব নিয়ে আমি ভাবিনা। হাস্যকরও বটে! একজন আধুনিক কবি হিসাবে আমি আমার
দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করার যথাসম্ভব চেষ্টা করে যাচ্ছি। এটাই আল্লাহর শুকরিয়া ইয়াসিন
মাহমুদ : সম্পাদনার জগতে কিভাবে এলেন? মোশাররফ হোসেন খান : লিখতে লিখতেই এক সময় দায়িত্বের অংশ হিসাবে আমার ওপর ভার পড়ে যশোর থেকে প্রকাশিত [অধুনালুপ্ত]
‘সাপ্তাহিক মুজাহিদের' সাহিত্য পাতা ও ছোটদের
বিভাগ ‘নবীনের মাহফিল' সম্পাদনার। সেটা ১৯৮০
সালের দিকে। এর আগেই সাহিত্য সংকলন ‘প্রস্তুতি’, ‘দাবানল’, ‘বিহঙ্গ' প্রভৃতি সম্পাদনা করেছি। যে সংকলনগুলো সাহিত্য সমাজে
তথা ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ও পশ্চিম বাংলায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। যশোর
থেকে সম্পাদনা করলেও এর প্রভাব ছিলো বিস্তর। আর তখনও তো আমি সাহিত্যের তুমুল স্রোতে
ভাসমান এক নাবিক! সম্পাদনার পাশাপাশি যশোর বাদশাহ ফয়সল ইনষ্টিটিউটে বাংলা বিভাগের
ইন্সট্রেকটর ছিলাম। সাপ্তাহিক আমার সংকলন সম্পাদনা, শিক্ষকতা, সাপ্তাহিক মুজাহিদের দুটি বিভাগ সম্পাদনার পাশাপাশি
যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘স্ফুলিঙ্গ' পত্রিকায় সম্পাদনার কাজ করতাম। আর দুই হাতে লিখতাম বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন
পত্র-পত্রিকায় সাহিত্য সংকলনে। খুলনা বেতারে যেতে হতো প্রতি মাসে দুই বার কবিতা পড়তে।
তখনকার সময়গুলো যে কিভাবে কতটা পরিশ্রম ব্যস্ততার মধ্যে পার করতে হতো, সে কেবল আল্লাহপাকই জানেন! এরপর ১৯৮৫ সালে ঢাকায়
এসেই যুক্ত হলাম মাসিক ‘আল ইত্তেহাদ’, মাসিক ‘উম্মাহ ডাইজেস্ট' পত্রিকা সম্পাদনার
দায়িত্বে। তারপর থেকে তো সম্পাদনার কাজেই নিবেদিত আছি। মোট কথা আমার কৈশোর কাল শুরু
হয়েছিল সাহিত্যের মাধ্যমে। কর্মজীবন কাটছে সাহিত্য ও সম্পাদনার মাধ্যমে। জীবনে সাহিত্য
ছাড়া অন্য কোন কিছু করেনি, করার চেষ্টাও করিনি।
ইয়াসিন মাহমুদ :
আপনি তো এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘নবীন-তরুণ লেখক সমাবেশে যোগদান করছেন। জানি
এটা আপনার জন্য এটা খুব পরিশ্রমের কাজ, তবুও কোন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এতো পরিশ্রম করছেন?
মোশাররফ হোসেন খান
: হ্যাঁ, এটা আমার জন্য পরিশ্রমের
কাজ বটে, তবে গুরুত্ব ও প্রয়োজনের
দিক দিয়ে বিবেচনা করলে আমি আর আমার পরিশ্রমের কথা ভাবতে পারিনা । তখন আমার চোখের সামনে ভেসে
ওঠে গোটা বাংলাদেশের সুস্থ সাহিত্য-সংস্কৃতির চালচিত্রটি। একদিকে যেমন ব্যথিত হই অন্যদিকে
আশায় বুক বেঁধে বেরিয়ে পড়ি। এর মূল উদ্দেশ্য নবীন-তরুণ লেখক-প্রতিভার সন্ধান করা।
প্রায় গোটা বাংলাদেশেই ছুটে বেড়াচ্ছি নবীন-তরুণ লেখক-প্রতিভার খোঁজে। কারণ আমি মনে
করি শুধু দু'একজন বড় হলে চলবে না, দু'একজন কবি হলে চলবে
না, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর সম্ভাবনাময়ী
প্রতিভা রয়েছে। যারা সঠিক দিক নির্দেশনা ও সুযোগ না পাওয়ার কারণে সামনে এগুতে পারছে
না। তাদেরকে যদি প্রকৃত অর্থে সঠিক পথের সন্ধান দেওয়া যায় তাহলে আমাদের সাহিত্যের
জমিনটি অনেক ঊর্বর ও বিস্তারিত হবে । এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আমি এধরনের প্রচুর উজ্জ্বল প্রতিভার সন্ধান ইতোমধ্যেই পেয়েছি।
যাদেরকে পরিচর্যা করা গেলে আমরা অনেক সুফল পেতে পারি। আমার মনে হয় এব্যাপারে দায়িত্বশীলদের
আরোও গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবমুখী কর্মপন্থা অবলম্বন করা একান্ত জরুরি। তবে আমি আমার কাজ
করে যাচ্ছি। বাকি জীবনটুকুও ইনশাআল্লাহ সাহিত্যের মাধ্যমেই কাটাতে চাই। অবশ্য এর জন্য
আমার জীবনের কম খেসারত দিয়ে হয়নি! বলতে গেলে, অনেক মূল্য দিতে হয়েছে।
তবে সেসব ছাপিয়ে আজ খুশির মাত্রাটাই যেন বেশি মনে হয়। কারণ আমার সাথিদের অনেকেই সাহিত্যের
কষ্টকর পথ থেকে পিছু হটতে দেখেছি, ছিটকে পড়তে দেখেছি, ঝরে যেতে দেখেছি। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিন আমাকে
এখনো এই কঠিন পথে চলবার মানসিক শক্তি এবং রহমত দান করেছেন। এটাই শুকরিয়া আলহামদুলিল্লাহ!
ইয়াসিন মাহমুদ :
আপনি তো গোটা জীবনটাই সাহিত্যের পথে কাটিয়ে দিলেন। অন্য পেশায় যাননি কেন? লেখালেখি দিয়ে কী সংসার চলে? মোশাররফ হোসেন খান : আমি ইচ্ছে করে এবং সকল কিছু
জেনে বুঝেই সাহিত্যের পিচ্ছিল পথে আজীবন হাঁটার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে পা বাড়িয়েছিলাম।
সেই ছোট্ট কালে। আল্লাহর রহমতে এখনও হেঁটে চলেছি । বাকি জীবনটাও চলতে চাই । অন্য পেশায় যাবার সুযোগও
ছিলো, কিন্তু সাহিত্য সাধনার ক্ষতি হবার সমূহ সম্ভাবনা
থাকায় সেসব পেশায় যাইনি। আমিতো আশৈশব কাল থেকেই একজন কবি হয়ে বেড়ে উঠতে চেয়েছিলাম।
অন্য কিছু হবার খায়েশ ছিলো না কখনো। সুযোগ পেয়েও তাই সেসব পেশায় যায়নি । একমাত্র সাহিত্যের কারণে । অনেকেই হয়তো জানেন যে, আমার পরিবার ও আত্মীয়দের প্রায় সকলেই বিভিন্ন
পেশায় ভালো অবস্থানে চাকুরিরত। ব্যতিক্রমী মাত্র আমি! সাহিত্য করে সংসার চলে না ঠিকই, কিন্তু আল্লাহপাক চালিয়ে নিয়ে যান তাঁর একান্ত
অনুগ্রহের মাধ্যমে। দারিদ্র্য কিংবা অর্থ কষ্ট, সংসারের টানাপড়েন
আছে বৈকি,
তবুও কোন অভাববোধ করিনা। গোটা
পরিবারই আমার এই আর্থিক সংকট ও সাহিত্যের প্রশান্তিকে
মেনে নিয়েছেন খুশি মনে। আমি অনেকের চেয়েই অনেক অনেক গুণে পারিবারিকভাবে সুখী মানুষ।
অর্থ বিত্ত থাকলেই কেবল সংসারে সুখ-শান্তি থাকে না, সেটা একটি ভিন্ন জিনিস।
মনের ব্যাপার। আমার কবি-জীবনকে নিয়ে আমার পরিবারের সকলেই খুব খুশি। তাদের বাড়তি আর
কোন চাওয়া-পাওয়াও থাকে না আমার কাছে। এর চেয়ে সুখের বিষয় আর কি হতে পারে? আমি মনে করি, এসবই আল্লাহর পক্ষ
থেকে আমার জন্য একটি বড় নিয়ামত। কারণ আমার পরিবারের সবাই সাহিত্যবোদ্ধা, সাহিত্য প্রেমিক এবং আমার সাহিত্য কর্মের জন্য খুবই
সহায়ক এবং প্রেরণাদায়ক। এর চেয়ে আর কি পেতে চাই আমি। এটাই তো আমার জন্য মহা মূল্যবান
সম্পদ। আমার আব্বাজানও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনিই আমাকে প্রথমে হাত ধরে সাহিত্যের সমুদ্র
তীরে নামিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে তো ক্রমাগত আমার সাঁতরিয়ে চলার পালা শুরু ।
ইয়াসিন মাহমুদ :
একদিন দেখলাম একটা প্রবন্ধ লেখার জন্য-বই খুঁজতে গিয়ে সেলফের সব বই তছনছ করলেন। কিন্তু
খুঁজে পেলেন না । পরে দেখলাম ভাবী বইটি খুঁজে আপনাকে দিলেন । আপনার লেখালেখির এই পরিণত
বয়সে ভাবীর অবদানকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
মোশাররফ হোসেন খান
: হ্যাঁ, সংসার জীবনের প্রথম থেকেই তিনি আমার সাহিত্যের প্রতিটি
ক্ষেত্রেই সহযোগিতা করে আসছেন। এখন ছেলে-মেয়েরাও আমাকে আমার কাজের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাশীল।
তারা আমার কাজের ক্ষেত্রে নানাভাবে সহযোগিতা করে থাকে। এদিক দিয়ে আমি খুবই সুখী এবং
ভাগ্যবান কবি। আমি তাদের প্রতি প্রকৃত অর্থেই কৃতজ্ঞ।
ইয়াসিন মাহমুদ :
সাহিত্য-সংস্কৃতির কাগজ আবীর সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন?
মোশাররফ হোসেন খান
: ম্যাগাজিনটি আমি দেখেছি এবং পড়েছি। খুব যত্ন নিয়ে করা। আবীরের প্রতিটি পৃষ্ঠায়
সযত্ন, শ্রম ও সম্পাদনার রুচিবোধে পরিচয় পাওয়া যায়।
আমার খুব ভালো লেগেছে। এধরনের সাহিত্যের কাগজ যত বেশি এবং নিয়মিত প্রকাশ পাবে ততই
সুফল পাওয়া যাবে।
ইয়াসিন মাহমুদ :
সারাদেশে সুস্থ ধারার সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেবার
প্রত্যয়ে সমন্বিত
সাংস্কৃতিক সংসদ (সসাস) নামে একটি সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের বেশ কিছু
প্রোগ্রামে আপনাকে অতিথি হিসাবে দেখেছি। সসাস সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন?
মোশাররফ হোসেন খান
: সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশের ক্ষেত্রে ‘সসাসের’ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসা
যোগ্য । আমি বাংলাদেশের যখনই যে অঞ্চলে সাহিত্য সমাবেশে গিয়েছি, সেখানেই সসাসের ভূমিকার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি।
এতে বুঝা যায় যে তাঁদের কার্যক্রম অত্যন্ত সময় উপযোগী। যে কারণে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত
অঞ্চল পর্যন্ত এ ব্যাপ্তি ঘটেছে। আনন্দে আমার সত্যিই বুকটা ভরে উঠে! সাহিত্যের ক্ষেত্রেও
এই ধারা অনুসরণ করা গেলে ভালো হতো। বরং সেটাই সময়ের দাবি। বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা
পর্যন্ত অন্তত একটি করে সুস্থ ধারার সাহিত্য সংগঠন গড়ে তোলা উচিৎ। এবং একটি সুনির্দিষ্ট
নীতিমালা ও কর্মপদ্ধতির ভিত্তিতে কেন্দ্রিয়ভাবে দিক নির্দেশনামূলক পরিচালিত হওয়া
জরুরি বলে আমি মনে করি। কারণ সাহিত্য এবং সংস্কৃতি দুটোই একই সূত্রে গাঁথা। দুটি ক্ষেত্রই
সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং সময়ের এই
গুরুত্ব অনুধাবন করে সুস্থ সাহিত্য-সংস্কৃতি আন্দোলনের বিস্তার ঘটানোর জন্য বাস্তবমুখী
পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সসাসের পদক্ষেপ আরো সুদৃঢ় হোক যেমন কামনা করি, তেমনি সুস্থ সাহিত্য ধারা আন্দোলনও বেগবান হোক-এটাও
প্রত্যাশা করি। সসাস বাংলাদেশের বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছে এজন্য সসাসের কর্তৃপক্ষকে
অশেষ মুবারকবাদ। তাঁদের এ শ্রমলব্ধ প্রয়াস অব্যাহত থাকুক, এটাই কামনা করি।
সাক্ষাৎকার গ্রহণে
ইয়াসিন মাহমুদ ২৮.৪.২০১৬

