কবি মতিউর রহমান মল্লিক স্মরণে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
কবি আল মুজাহিদী বলেন, মতিউর রহমান মল্লিক ছিলেন দরবেশ কবি,তাঁর লিখনিগুলো আমাদের পড়তে হবে ভবিষ্যত প্রজন্মকেও পড়াতে হবে তাহলেই কবি মতিউর রহমান মল্লিককে সঠিকভাবে জানা যাবে।
১২ আগস্ট শুক্রবার বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমি আয়োজিত কবি মতিউর রহমান মল্লিকের ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তরার একটি মিলনায়তনে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে তিনি একথা বলেন।
বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির চেয়ারম্যান বাচিক শিল্পী শরীফ বায়জীদ মাহমুদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির সহ-সভাপতি আবেদুর রহমান।
সহকারী সেক্রেটারী প্রিন্সিপাল সালাউদ্দিন ভুঁইয়ার উপস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গীতিকার সুরকার তাফাজ্জাল হোসাইন খান, কবি আমিনুল ইসলাম, বিসিএ এর সেক্রেটারি গল্পকার ইবরাহীম বাহারী, কবি নাসির হেলাল, কবি শহীদ সিরাজী, কবি ইবরাহীম মন্ডল ও এ্যড.জোবায়ের আল মামুন প্রমুখ।
কালচারাল একাডেমির চেয়ারম্যান শরীফ বায়জীদ মাহমুদ বলেন-কবি মল্লিক ছিলেন তুখোড় সংগঠক,আমাদের সাংস্কৃতির চর্চার লক্ষ্য শুধুমাত্র চিত্ত বিনোদন নয়,আমাদের লক্ষ্য চিত্ত পরিশুদ্ধ করা। কবি মতিউর রহমান মল্লিকের গান কবিতায় চিত্ত পরিশুদ্ধ করার সমৃদ্ধ উপাদান আছে। তাকে বলা হয় গানের পাখি কবি মল্লিকের হাত ধরেই বাংলাদেশের অসংখ্য নৈতিকতায় উৎকর্ষিত সংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠা হয়েছে ।
অনুষ্ঠানে মল্লিকের গান পরিবেশন করেন শিল্পী হাসানাত কাদের, আমিনুল ইসলাম,মাহবুব আল হাদী, এইচ এম ইদ্রিস ও ড্রিম হোমসের শিল্পীবৃন্দ। আবৃত্তি করেন আহসান হাবীব খান, নিবেদিত কবিতা পাঠ করেন কবি ওয়াহিদ আল হাসান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার মাহফুজ চঞ্চল, অফিস সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বিসিএ এর জোন এবং ক্লাব পর্যায়ের সংগঠকবৃন্দ।
শাহ্ আলম নূর (৬২) গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল ৫ টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ইন্তেকাল করেন। গতকাল ১ লা সেপ্টেম্বর জোহর নামাজ বাদ বুকের ব্যথা ও শ^াসকষ্ট নিয়ে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি হন। কর্তব্যরত চিকিৎসক জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। পরবর্তীতে সেখানে ভর্তি করা হয়। সকলকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে তিনি চলে গেলেন মহান রবের সান্নিধ্যে। ২ সেপ্টেম্বর বাদ জুমা ঢাকার খিলগাঁস্থ তালতলা বটতলা জামে মসজিদে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয় এবং খিলগাঁ তালতলা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জানাযায় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাহিত্য- সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনেরা অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালের ১ লা জানুয়ারি জামালপুর শহরের কাছারি পাড়ায় নানাবাড়িতে তাঁর জন্ম। তিনি ২ ছেলে ১ মেয়ে, স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সাংবাদিকতার মাধ্যমে শাহ আলম নূরের কর্মজীবন শুরু হয়। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার পর চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণের কাজে গভীর মনোযোগী হবার প্রয়াসে সাংবাদিকতা ছেড়ে দেন। একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান এবং চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণের দিকে ঝুঁকে পড়েন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ধ্যান ও জ্ঞানে এ পথেই হেঁটেছেন তিনি। তিনি পলাশ থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও নাট্য সংসদের সভাপতি ছিলেন।
আল কুরআনের ফরিয়াদ, কুলখানি, বোরকা, জাহান্নামের ফেরিওয়ালা, দুধারী তলোয়ার, পরকালের পাঠশালা তাঁর নির্মিত এ নাটকগুলো ব্যাপক দর্শক প্রিয়। তার নাটকে জনপ্রিয় নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, উৎপল, প্রিয়া ডায়েস, জলি আহমেদ, খলিল, খালেদা আক্তারসহ অসংখ্য জনপ্রিয় অভিনেতা অভিনয় করেছেন।

