আল মাহমুদ এর শ্রেষ্ঠ শিশু কিশোর সাহিত্য: একটি দেশজ প্রকাশনা
জাকির আবু জাফর
![]() |
| দেশজ প্রকাশন এ যেতে ক্লিক করুন |
সাদা কথা হচ্ছে- কাজের সমন্বিত রূপই পৃথিবীর জীবন। কাজ ছাড়া জীবনের চ‚ড়া নির্মিত হয় না। কাজই জীবনকে উঁচু করে তোলে। ফুলের গন্ধের মতো সুবাসিত করে। ভোরের আলোর মতো উজ্জ্বল করে। বিষয়টি মানুষের জীবনে আরও গুরুত্ববহ । সমাজেও এর গুরুত্ব জাজ্বল্যমান। কাজহীন গলাবাজি কিংবা কথাবাজির কোনো মূল্য নেই। কথাটি যতটা ভালো করে বোঝা যাবে ততটাই কল্যাণ! ততটাই উত্তম! এ উত্তম কাজটিই করেছে দেশজ প্রকাশন। সুতরাং দেশজকে প্রশংসার ফুল উপহার দেয়াই যায়।
আল মাহমুদ এর কিশোর কবিতা এক অন্য মাত্রার শিল্প। এক অনন্য ধারার কবিতা। কিশোর কবিতার রাজপুত্র কাজী নজরুল ইসলাম। তিনিই কিশোর কবিতার ভুবন রঙিন করে তুলেছেন। তার আগে কিশোর মনে বিস্ময়ের চরকা কাটতে পারেনি। মাঝখানে অনেক পথ। এ পথে পথিকও আছেন অনেকেই। কিন্তু আল মাহমুদ এসব পথিকদের মধ্যে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন একটি নিজস্ব চ‚ড়ায়।
কিশোর মনে কল্পনার পাখা থাকে বিস্তারিত। থাকে সীমা ভাঙার ঢেউ। থাকে দিগন্ত থেকে দিগন্তে উড়ে বেড়ানোর উত্তাপ। প্রজাতির রঙিন উড়াল আপ্লুত করে কিশোরের মন। ঝিঙ্গে ফুলের হলুদ আকর্ষণে হেসে ওঠে আপনাতেই। ফড়িং ধরার আনন্দে নেচে ওঠে সহসা। আকাশের উড়ন্ত পাখি হবার ইচ্ছে নাড়িয়ে তোলে মন। মেঘের ভেসে চলার আনন্দে নেচে ওঠে না কার মন। কাঁঠাল চাঁপার সৌরভের কাছে পরাজিত হয় না কে। জোনাকির জ্বলে ওঠার দৃশ্যে অবাক না হয়ে পারা যায় কি! স্বপ্নে কিংবা কল্পনায় একটি কিশোর যখন তারায় তারায় হাটে কিংবা মধ্য রাতে চাঁদের গায়ে হাত বোলানোর সুখ অনুভব করে। তাকে বর্ণনার ভাষা জোগায় কিশোর কবিতা। আল মাহমুদ তার কিশোর কবিতায় সে আনন্দময় ভাষা জুগিয়েছেন। সেই কল্পনার জগৎ নির্মাণ করেছেন। সেই বিশালত্ব পুরে দিয়েছেন কিশোর কবিতার শরীরে।
যেমন কিশোর কবিতায় তেমনই কিশোর গল্পে, উপন্যাসে এবং গদ্য রচনায়ও। শ্রেষ্ঠ শিশু কিশোর সাহিত্য সংকলনে এসব সমষ্টি হয়েছে। সম্মিলন ঘটেছে বিচিত্র রচনাবলীর। পাঠকের পাতে এ রচনাবলী তুলে দেবার কাজটি দেশজের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। কাজটির জন্য দেশজ প্রকাশনকে অভিনন্দন জানাই। ধন্যবাদ জানাই প্রকাশক মনোয়ারুল ইসলামকে।
সময়ের কাজ সময়ে করা। যথাযথভাবে করা। যথার্থভাবে করা এবং পরিপূর্ণভাবে করা জরুরি। কাজটি যেমন শিল্পগন্ধী হওয়া উচিত তেমন না হলে সে কাজ সময়ের কোথাও দাগ কাটে না। কাজটি বেঁচেও থাকে না। অল্পতেই হারিয়ে যায়। সামান্যতেই মুছে যায়। সমাজে বা রাষ্ট্রে এর কোনো ভ‚মিকাই থাকে না।
আর কাজটি যদি হয় শিল্প- সাহিত্যের তবে তো ভাববার আছে আরও আরও। দেখবার আছে দৃষ্টির সূ²তায়। দেখতে হবে কাজটি কতটা শিল্পসম্মত! কাজটিতে নান্দনিকতা আছে কি নেই! থাকলে সেটি পরিপূর্ণ কি না!
শিল্পের কাজ যদি শৈল্পিক না- ই হলো তবে তাকে গ্রহণের চেয়ে বর্জনের দিকে ভোট বেশি থাকে। তাই শিল্পকে শিল্পের মানদÐে উৎরে যেতেই হবে। মানতেই হবে শিল্পের নান্দনিক নকশা। শিল্পের সৌন্দর্য এখানেই। শিল্পের গভীরতাও এই বাঁকে। এবং এটিই শিল্প সাহিত্যের আধুনিকতা। সময়ের দাবীও এটিই। আল মাহমুদ এর শ্রেষ্ঠ শিশু কিশোর সংকলনটি প্রকাশ করে সময়ের দাবীটি মিটিয়েছে দেশজ প্রকাশন।
যেনতেন কাজ করার উদাহরণ তো ভুরি ভুরি। যত্রতত্র আছে এর নমুনা। আছে এখানে ওখানে সবখানে। এবং ছিলো সবসময়। সকল জাতি ও সমাজেই ছিলো এর হাইব্রিড জন্ম ঢেউ। কিন্তু গুছিয়ে গাছিয়ে সব দিক থেকে পরিপাটি করে কাজ করা কিছুটা কঠিনই বটে। কিছুই বা বলি কেনো বেশ কঠিন। কঠিন বলেই শিল্পের নামে অশিল্পের জয়োগান সর্বত্র স্রোতের মতো। নান্দনিকতার নামে অনান্দনিক সমাহার। সুন্দরের মোড়কে অসুন্দরের সুনামি। দেশজ অন্তত সৌন্দর্যের এ ধাপে নিজেকে উৎরাতে পেরেছে। এর গেটআপ মেকআপ এ সামান্য ত্রæটির আঁচ থাকলেও, কাগজ, ছাপা এবং অলংকরণের নান্দনিকতায় ঝলমলে হয়েছে প্রকাশনাটি। শিল্পী মোমিন উদ্দীন খালেদ- এর আঁকা রঙিন রেখা জীবন্ত হয়ে উঠেছে নানা আঙ্গিকে। কবিতার শরীরে ছড়ানো ভাষা ছবির রেখায় চিত্রিত হয়েছে।
আল মাহমুদ এর শ্রেষ্ঠ শিশু কিশোর সংকলনটির ব্যাপক প্রসার ঘটুক। পাঠকদের হাতে হাতে উঠে আসুক গ্রন্থটি। হয়ে ওঠুক শিশু-কিশোর জগতের একটি আনন্দময় বই।
লেখক: কবি, কথাসাহিত্যিক ও সম্পাদক


পাঠকের পাতে এ রচনাবলী তুলে দেবার কাজটি দেশজের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। কাজটির জন্য দেশজ প্রকাশনকে অভিনন্দন জানাই।
উত্তরমুছুনআল মাহমুদ এর কিশোর কবিতা এক অন্য মাত্রার শিল্প
উত্তরমুছুন